Dr. Aminul Islam
Published:2020-06-26 16:14:11 BdST
ডা.নিজাম: যিনি সারা বাংলার ডাক্তারদের অক্লান্ত সেবার প্রতীক
সংবাদদাতা , ফেনী
___________________
করোনাযুদ্ধে মানুষের সেবায় অনন্য নজির স্থাপন করে সকলের মন জয় করেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ও উপজেলা করোনা ফোকাল পার্সন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন মিজান। তিনি সারা বাংলার ডাক্তারদের অক্লান্ত সেবার প্রতীক । তার স্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অক্ষমতার প্রতীক হয়, তিনি মানবসেবীর প্রতীক।

রোগীর জীবন বাঁচানোর আনন্দের চেয়ে রোগীর জীবনরক্ষা না করতে পারার কষ্টও কম নয় একজন ডাক্তারের কাছে। জীবন বাঁচাতে না পারলে ডাক্তার কেমন আপনজন হারানোর কান্নায় ভেঙে পড়ে , এ ছবি তারই দৃষ্টান্ত। অসংখ্য মানুষের জীবন বাচিয়েছেন, কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থার অক্ষমতায় একজন রোগীকে কাঙ্খিত চিকিৎসা দিতে পারেন , তারই কষ্টচিত্র এ ছবি।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা এক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হয়ে উঠেন এ চিকিৎসক। প্রশংসায় ভরে ওঠে অনলাইন।
ঘটনাটি ছিল, হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তায় এক কিশোর তার নিথর বাবাকে কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে আছে। কাঁদতে কাঁদতে সাহায্য চাইছে। তার বাবাকে বাঁচানোর জন্য আকুল আর্তনাদ করছে সে। আশেপাশে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কেউই সাহায্য করছে না। ডা. নিজাম দ্রুত গিয়ে রোগীর নাড়ি চেক করলেন। পালস নেই। রোগীকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে সিপিআর দেওয়া শুরু করলেন তিনি। একটা সময় পরে গিয়ে পালস পেলেন। তখনও সিপিআর চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সারাদিনের ক্লান্তির পরে এই কষ্টকর কাজটা করার জন্য শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই তার। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। বিকেল থেকে পিপিই পরা, মুখে এন-৯৫ মাস্ক। ক্লান্তির সঙ্গে শ্বাস নিতেও অসুবিধা হচ্ছিলো তার। একটা সময় পরে গিয়ে আর পারেন না তিনি।
ছেলেটা পাশে থেকে দেখে বুঝে গেছে কীভাবে সিপিআর দিতে হয়। বাবাকে বাঁচানোর চেষ্টায় সিপিআর দিচ্ছিলো সে। কিছুতেই মরতে দেবে না বাবাকে। পাশে বসে রোগীর দিকে নজর রাখছিলেন ডা. নিজাম। হঠাৎ করেই রোগীর চোখ স্থির হয়ে গেলো। দেখেই দ্রুত পালস চেক করলেন। পালস নেই। তার চোখের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ছেড়ে রোগী চলে গেছে অন্য কোনো ভুবনে। বাচ্চা ছেলেটা তখনও সিপিআর দিয়ে চলেছে। ওর কাঁধে আলতো করে হাত রাখলেন তিনি। ডাক্তারের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ছেলেটা, তারপরে বাবার মুখের দিকে। স্থির হয়ে গেলো তার হাত দুটো। অনভিজ্ঞ জীবনের সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতাটা সয়ে গেলো সে নীরবে।
এমন ঘটনা একটি কিংবা দুটি নয়- আহরহ গল্প আছে এমন। ডা. নিজাম সর্বোচ্চ দিয়ে চান রোগেীদের সেবা দিতে।
কথা হয় ডা. নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, মার্চ মাসের ২৩ তারিখ থেকে উপজেলায় করোনা ফোকাল পার্সনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করে আসছেন মানুষকে সচেতন করতে। কিন্তু কোনোভাবেই সচেতন করা যাচ্ছিলো না। মানুষ উপসর্গ নিয়ে ঘুরছে- গুরুতর আহত হয়ে কষ্ট করছে তবুও হাসপাতালে এসে নমুনা দিতে চাইছিলো না।
উপায়ন্তর না দেখে বাড়ি বাড়ি গিয়েই নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন।
নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘ডা. নিজামের সাহসী ভূমিকার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অবহিত হয়েছি। হাতিয়ার মতো এমন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এত আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে যাওয়াটা প্রশংসনীয় কাজ।’
ডা. নিজামের ব্যাপারে উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, ‘ডা. নিজামের সুনাম ইতোমধ্যেই পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি একজন পরিশ্রমী ডাক্তার। যতটুকু জেনেছি তিনি রোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করে সেবা দেন।
_________INFORMATION________________

