Desk
Published:2022-09-02 18:45:04 BdST
মটর সাইকেল থেকে পড়ে চিকিৎসক স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, শিশুকন্যাকে নিয়ে ডা. সাইফের জীবনের মর্মস্পর্শী অধ্যায়
ডেস্ক
______________________
"ডা. সাইফ উদ্দিন আহমদ প্রথম বিয়ে করেছিলেন ১০ বছর আগে। একদিন ফেনীতে মোটরসাইকেলের পেছনে চিকিৎসক স্ত্রীকে বসিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন। অসতর্কতাবশত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান স্ত্রী। একপর্যায়ে পেছনের ঘাতক ট্রাক এসে রাস্তায় ঢলে দেয় স্ত্রীকে। প্রিয়তমা স্ত্রীকে পিষে মারার সেই মর্মন্তুদ দৃশ্য কাছ থেকে দেখেছিলেন ডা. সাইফ। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। হৃদয় দলিতমথিত করে কান্নার দলা বেরিয়েছিল শুধু। সেই কান্না সঙ্গী করে চিকিৎসক স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুকন্যাকে নিয়ে স্বাভাবিক হতে তার সময় লেগেছিল।"
ডা. সাইফ উদ্দিন আহমদের চিকিৎসক স্ত্রীর মর্মন্তুদ মৃত্যু নিয়ে মর্মস্পর্শী এক লেখা লিখেছেন একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার। এই লেখা শোকাবহ , মর্মান্তিক কান্নায় ভরা। লেখাটি আজাদ তালুকদারের সৌজন্যে প্রকাশ হল পাঠকদের জন্য।
আজাদ তালুকদার লিখেছেন ,
ডা. সাইফ উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের রেজিস্ট্রার। ফেনীর পরশুরামে জন্মগ্রহণ করা সাইফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। নিয়েছেন এমএস ডিগ্রি। সাংগঠনিকভাবেও দ্বিশক্তিসম্পন্ন। বিএমএ ফেনী শাখার প্রচার সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম শাখার সদস্য। করোনার সময় তুমুল মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় পান জীবনঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে।
বিয়ে করেছিলেন ১০ বছর আগে। একদিন ফেনীতে মোটরসাইকেলের পেছনে চিকিৎসক স্ত্রীকে বসিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন। অসতর্কতাবশত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান স্ত্রী। একপর্যায়ে পেছনের ঘাতক ট্রাক এসে রাস্তায় ঢলে দেয় স্ত্রীকে। প্রিয়তমা স্ত্রীকে পিষে মারার সেই মর্মন্তুদ দৃশ্য কাছ থেকে দেখেছিলেন ডা. সাইফ। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। হৃদয় দলিতমথিত করে কান্নার দলা বেরিয়েছিল শুধু। সেই কান্না সঙ্গী করে চিকিৎসক স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুকন্যাকে নিয়ে স্বাভাবিক হতে তার সময় লেগেছিল।
সেই জমানোকান্না, অস্বাভাবিকতা নিয়ে স্বজন-শুভার্থীদের অনুরোধে ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন সাইফ। সব ভুলে শুরু করতে চেয়েছিলেন নতুন জীবন, স্বাভাবিক যাপন। একটি কন্যা সন্তানও জন্ম নেয় নতুন স্ত্রীর ঘরে।
সেই স্ত্রী, স্ত্রীর শিশুকন্যা, প্রয়াত স্ত্রীর ৮ বছর বয়সী কন্যাকে রেখে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে চিরদিনের জন্য নাই হয়ে গেলেন তরুণ, মেধাবী চিকিৎসক সাইফ উদ্দিন।
একেবারে সুস্থ সবল মানুষ। আগের রাতেও আড্ডা, ভালোবাসায় মাতিয়েছিলেন স্বজনদের। সকালে ঘুম থেকে উঠে বললেন বুকে ব্যথা। নিজের কর্মস্থল চমেক হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সময় বেশি দিলেন না। কার্ডিয়াক এরেস্ট হয়ে দুপুর আড়াইটায় দূর আকাশের তারা হয়ে গেলেন চিকিৎসা জগতের সত্যিকারের শোভন, সুন্দর তারাটি।
আহা জীবন! আহা মৃত্যু! কত সহজ, কত কাছাকাছি তাদের অবস্থান। মৃত্যুর জন্য এখন আর বয়স লাগে না। লাগে না আয়োজন। অথচ ছোট্ট জীবনটার জন্য আমাদের কতই না আয়োজন! কত দৌড়ঝাঁপ, স্বার্থপরতার কত রঙ!
পরপারে অনেক ভালো থাকুন প্রিয় সাইফ। "
